অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহার করার নিয়মের প্রথম কথা হলো—এটি চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ও প্রশিক্ষিত সরবরাহকারীর নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে। অক্সিজেন জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার অংশ হতে পারে, তবে ভুল ডিভাইস, ভুল সেটিং বা আগুনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে ব্যবহার বিপজ্জনক। এই গাইড নিরাপত্তা বোঝায়; এটি ফ্লো রেট বা রোগ নির্ণয়ের নির্দেশনা দেয় না।
অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহার করার নিয়ম: প্রেসক্রিপশন আগে
কেন অক্সিজেন দরকার, কোন ডিভাইস উপযুক্ত, কোন ডেলিভারি ইন্টারফেস ব্যবহার হবে এবং কতক্ষণ ব্যবহার হবে—এসব রোগীর চিকিৎসা পরিকল্পনার অংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, অক্সিজেন থেরাপি সঠিক ডিভাইস ও প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করে দেওয়া জরুরি। নিজের সিদ্ধান্তে ফ্লো বাড়ানো, কমানো, বন্ধ করা বা শুরু করা ঠিক নয়।
সিলিন্ডার হাতে পাওয়ার সময় সরবরাহকারীকে দিয়ে রেগুলেটর, ফ্লোমিটার, টিউব, কানুলা বা মাস্ক—যা প্রেসক্রাইব করা হয়েছে—পরিচিত হয়ে নিন। কোন অংশে হাত দেওয়া যাবে না, কখন সরবরাহকারীকে ফোন করতে হবে এবং জরুরি নম্বর কোথায় থাকবে, তা পরিবারের সবাই জানুক।
অক্সিজেন সিলিন্ডার নিরাপত্তা: অক্সিজেন রেগুলেটর প্রস্তুতি
সিলিন্ডার সবসময় খাড়া ও পড়ে যাওয়া থেকে সুরক্ষিত স্থানে রাখুন। ভালভ, রেগুলেটর বা ফিটিংয়ের সঙ্গে তেল, গ্রিজ, ভ্যাসলিন বা অননুমোদিত লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করবেন না। অক্সিজেনের সঙ্গে তেল বা গ্রিজের সংস্পর্শ অগ্নি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সংযোগ দেওয়ার আগে সরঞ্জামে দৃশ্যমান ক্ষতি, ঢিলা টিউব বা অস্বাভাবিক গন্ধ আছে কি না দেখুন। কোন অংশ জোর করে লাগাবেন না এবং ভিন্ন মডেলের রেগুলেটর বা অ্যাডাপ্টার নিজে থেকে বদলাবেন না। সামঞ্জস্যতা নিশ্চিত করার কাজ প্রশিক্ষিত সরবরাহকারীর।
হোম অক্সিজেন ব্যবহারে আগুন ও ধূমপান থেকে দূরে থাকুন
হোম অক্সিজেন ব্যবহারের সময় ঘরে ধূমপান একেবারেই চলবে না। মোমবাতি, গ্যাসের খোলা আগুন, ধূপ, স্পার্ক তৈরি করতে পারে এমন যন্ত্র, অ্যারোসল ও দাহ্য তরল থেকে সরঞ্জাম দূরে রাখুন। ঘরে বায়ু চলাচল রাখুন এবং টিউব এমনভাবে রাখুন যাতে পায়ে পেঁচিয়ে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি না থাকে।
- সিলিন্ডারের আশপাশে ধূমপান, খোলা আগুন বা তাপের উৎস রাখবেন না।
- রেগুলেটর ও ভালভ তেল-গ্রিজমুক্ত পরিষ্কার হাতে ধরুন।
- টিউবকে দরজা, চাকার নিচে বা হাঁটার পথে আটকে রাখবেন না।
- শিশু বা অপ্রশিক্ষিত কাউকে সরঞ্জাম নিয়ে খেলতে দেবেন না।
লিক, ত্রুটি বা জরুরি উপসর্গ হলে কী করবেন
হিসহিস শব্দ, ক্ষতিগ্রস্ত টিউব, ঢিলা সংযোগ, পড়ে যাওয়া সিলিন্ডার বা অস্বাভাবিক যন্ত্রের আচরণ দেখলে নিজে খুলে মেরামত করবেন না। সরবরাহকারীর নির্দেশ অনুযায়ী নিরাপদে ব্যবহার বন্ধ করুন এবং দ্রুত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সন্দেহ হলে সিলিন্ডার সরানো বা ভালভ ঘোরানোর আগে প্রশিক্ষিত সহায়তা নিন।
রোগীর শ্বাসকষ্ট, বুকব্যথা, নীলচে মুখ বা ঠোঁট, বিভ্রান্তি বা অজ্ঞান হওয়ার মতো জরুরি উপসর্গ থাকলে চিকিৎসা সহায়তা নিতে দেরি করবেন না। সরঞ্জাম ঠিক করার চেষ্টা জরুরি মূল্যায়নের বিকল্প নয়।
রিফিল বা বদলের পরিকল্পনা আগেই করুন
প্রেসক্রাইব করা ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী সরবরাহ পরিকল্পনা বুঝে নিন এবং কোন অবস্থায় রিফিল বা সিলিন্ডার বদল লাগবে তা সরবরাহকারীকে জিজ্ঞেস করুন। চিকিৎসকের নির্দেশ, ব্যবহারের সময় ও সরবরাহকারীর যোগাযোগ তথ্য লিখে রাখুন। রিফিলের সময় কী কী যাচাই করবেন, তা জানতে আমাদের অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিল গাইড দেখুন।
